হ্যাঁ, সমস্যাজনক জুয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে বিশ্বের অনেক দেশের জুয়ার বিশেষজ্ঞরা Motivational Enhancement Therapy (MET) ব্যবহার করে থাকেন। এটি একটি স্বল্পমেয়াদী, কাউন্সেলিং-ভিত্তিক হস্তক্ষেপ পদ্ধতি যা বিশেষভাবে ব্যক্তির নিজস্ব আচরণ পরিবর্তনের জন্য প্রেরণা বাড়াতে ডিজাইন করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, যদিও এটি এখনও ব্যাপকভাবে প্রচলিত নয়, তবে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা জুয়ার আসক্তি থেকে উত্তরণে সহায়তা করার জন্য এই থেরাপির নীতিগুলো প্রয়োগ করতে শুরু করেছেন।
MET-এর মূল ভিত্তি হলো ‘মোটিভেশনাল ইন্টারভিউিং’ নামক একটি কৌশল। একজন বিশেষজ্ঞ যখন কোনো জুয়াড়ির সাথে কথা বলেন, তিনি সরাসরি উপদেশ দেওয়ার বদলে একটি সহানুভূতিশীল ও সহযোগিতামূলক আলোচনার পরিবেশ তৈরি করেন। এই আলোচনার লক্ষ্য হলো ব্যক্তির内心ের দ্বন্দ্ব (Ambivalence) চিহ্নিত করা। যেমন – একদিকে জুয়ার মাধ্যমে উত্তেজনা অর্জনের ইচ্ছা, অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতি ও পারিবারিক সম্পর্কের অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির নিজের মুখ থেকে পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকগুলো এবং এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলতে উৎসাহিত করেন, যা থেরাপির সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করা হয়:
প্রথম ধাপঃ সহানুভূতি প্রদর্শন ও দ্বন্দ্ব প্রকাশ। বিশেষজ্ঞ রোগীর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তার অনুভূতির প্রতিফলন ঘটান। তিনি রোগীর কথায় থাকা পরিবর্তনের ইঙ্গিতগুলো (Change Talk) শনাক্ত করে সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন জুয়াড়ি বলেন, “আমি জানি জুয়া খেলে আমার সংসার ভেঙে যাবে,” বিশেষজ্ঞ তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেবেন না। বরং তিনি জিজ্ঞাসা করতে পারেন, “এটি কীভাবে আপনার জীবনকে প্রভাবিত করছে বলে আপনি মনে করেন?” এটি ব্যক্তিকে নিজের সমস্যা সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে।
দ্বিতীয় ধাপঃ স্ব-মূল্যায়ন বিকাশ। এ পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে তার বর্তমান আচরণ এবং ভবিষ্যত লক্ষ্যের মধ্যে ব্যবধান নিয়ে চিন্তা করতে উৎসাহিত করেন। তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে ব্যক্তিকে তার মূল্যবোধ (যেমন, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব, আর্থিক নিরাপত্তা) এবং জুয়ার আচরণের মধ্যে সংঘাত বুঝতে সাহায্য করেন।
তৃতীয় ধাপঃ পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পনা তৈরি। একবার ব্যক্তি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলে, বিশেষজ্ঞ তার সাথে一緒ে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেন। এতে জুয়া খেলার ট্রিগার চিহ্নিতকরণ, টাকা খরচের সীমা নির্ধারণ, এবং বিকল্প কার্যক্রম (যেমন, ক্রীড়া বা সামাজিক কাজ) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
বাংলাদেশের মতো প্রেক্ষাপটে, যেখানে জুয়ার সমস্যা সামাজিক কলঙ্কের সাথে জড়িত, MET-এর একটি বড় সুবিধা হলো এটি সমালোচনামূলক বা নির্দেশাত্মক নয়। এটি ব্যক্তিকে লজ্জিত না করে তার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। গবেষণায় দেখা গেছে, MET অন্যান্য থেরাপি (যেমন Cognitive Behavioral Therapy) এর সাথে結合使用时 আরও কার্যকর হয়।
জুয়ার আসক্তি মোকাবিলায় MET-এর কার্যকারিতা বোঝার জন্য নিচের সারণিটি কিছু ক্লিনিকাল গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করছে:
| গবেষণার বিষয়বস্তু | মোটিভেশনাল এনহ্যান্সমেন্ট থেরাপি (MET) | প্রথাগত পরামর্শ (কাউন্সেলিং) |
|---|---|---|
| থেরাপি পর্ব শেষে জুয়া খেলার ইচ্ছা হ্রাসের হার | ৬৮% | ৩৭% |
| থেরাপি শুরুর ৬ মাস পর জুয়ায় অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ হ্রাস | গড়ে ৭৫% কম | গড়ে ৩০% কম |
| থেরাপি গ্রহণের ১ বছর পর পুনরায় জুয়ায় ফিরে যাওয়ার হার (রিল্যাপ্স রেট) | ২২% | ৪৫% |
| ব্যক্তির নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতায় আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি | গড়ে ৮.৫/১০ পয়েন্ট | গড়ে ৫.২/১০ পয়েন্ট |
উপরের তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, MET শুধু জুয়ার আচরণ কমায়ই না, এটি ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদী আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ জুয়ার আসক্তি প্রায়শই বারবার ফিরে আসে (রিল্যাপ্স) একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা।
বাংলাদেশে, মনোরোগ চিকিৎসক এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টরা যারা আসক্তি নিয়ে কাজ করেন, তারা ধীরে ধীরে MET-এর প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। তবে এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের সংখ্যা এখনও সীমিত। দ্বিতীয়ত, অনেক জুয়াড়ি তাদের সমস্যা নিয়ে সাহস করে কাউন্সেলিং-এর জন্য আসেন না, কারণ এটি সামাজিকভাবে খুবই সংবেদনশীল একটি বিষয়। তৃতীয়ত, সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে জুয়া আসক্তি চিকিৎসার জন্য আলাদা বিশেষায়িত সেবা কেন্দ্রের অভাব রয়েছে।
তবুও, অনলাইন কাউন্সেলিং প্ল্যাটফর্ম এবং হেল্পলাইনের মাধ্যমে MET-এর কিছু নীতি প্রয়োগের প্রচেষ্টা চলছে। একজন বিশেষজ্ঞ ফোন বা ভিডিও কলে ব্যক্তির সাথে কথা বলে তার প্রেরণার স্তর মূল্যায়ন করেন এবং পরিবর্তনের পথে প্রথম ধাপটি তুলে ধরতে সাহায্য করেন। এই ধরনের সেবাগুলো গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারে বলে অনেকের কাছে এটি বেশি গ্রহণযোগ্য।
পরিশেষে, এটি বলা যায় যে জুয়ার বিশেষজ্ঞদের জন্য Motivational Enhancement Therapy একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এটি জোর জবরদস্তি নয়, বরং সহযোগিতা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে ব্যক্তিকে তার জীবনের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে এই পদ্ধতির ব্যাপক প্রসার ঘটাতে আরও প্রশিক্ষণ, সচেতনতা এবং বিশেষায়িত সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে। যেখানে জুয়ার বাণিজ্যিক দিকটি শক্তিশালী, সেখানে এর ক্ষতিকর দিক থেকে মানুষকে রক্ষা করতে此类心理干预措施的重要性怎么强调都不为过।